৩৭০+ বাংলা বাগধারা ও তাদের অর্থ (সমার্থক গুচ্ছ ও নম্বরসহ স্টাডি গাইড)
অফিসিয়াল কাজ, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা (যেমন: বিসিএস, ব্যাংক, শিক্ষক নিয়োগ) বা স্কুল-কলেজের পড়াশোনার জন্য বাংলা ব্যাকরণের বাগধারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
পাঠকদের সুবিধার জন্য এই পোস্টে একই অর্থ প্রকাশ করে এমন বাগধারাগুলো গুচ্ছ আকারে এবং স্বতন্ত্র অর্থের বাগধারাগুলো নির্দিষ্ট নম্বর দিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হলো। এতে কোনো বাগধারা বুঝতে বা মনে রাখতে সমস্যা হলে নম্বরটি চিহ্নিত করে পরবর্তীতে সহজেই রিভিশন দেওয়া যাবে।
🎯 ১ম অংশ: সমার্থক বা একই অর্থ প্রকাশ করে এমন বাগধারাসমূহ
১. অপদার্থ / অকেজো / অকর্মণ্য
- অকাল কুষ্মাণ্ড = অপদার্থ, অকেজো
- আমড়া কাঠের ঢেঁকি = অপদার্থ
- ঊনপাঁজুড়ে = অপদার্থ
- ঠুঁটো জগন্নাথ = অকর্মণ্য
- ষাঁড়ের গোবর = অযোগ্য
২. মারা যাওয়া / চিরতরে বিদায় নেওয়া
- অক্কা পাওয়া = মারা যাওয়া
- পটল তোলা = মারা যাওয়া
- শিঙে ফোঁকা = মরা
- অগস্ত্য যাত্রা = চির দিনের জন্য প্রস্থান
৩. খুব চালাক / ধূর্ত / সুচতুর
- অগাধ জলের মাছ = সুচতুর ব্যক্তি / খুব চালাক
- সেয়ানে সেয়ানে = চালাকে চালাকে
- নেপোয় মারে দই = ধূর্ত লোকের ফল প্রাপ্তি
৪. গলা ধাক্কা দেওয়া
- অর্ধচন্দ্র = গলা ধাক্কা
- অর্ধচন্দ্র দেওয়া = গলা ধাক্কা দিয়ে দেয়া
৫. একমাত্র অবলম্বন
- অন্ধের যষ্ঠি = একমাত্র অবলম্বন
- অন্ধের নড়ি = একমাত্র অবলম্বন
- সবে ধন নীলমণি = একমাত্র অবলম্বন
৬. অত্যন্ত ক্রুদ্ধ / রাগান্বিত
- অগ্নিশর্মা = নিরতিশয় ক্রুদ্ধ / ক্ষিপ্ত
৭. ভীষণ বিপদ / ঘোর বিপদ
- অথৈ জলে পড়া = খুব বিপদে পড়া
- অকূল পাথার = ভীষণ বিপদ
- আকাশ ভেঙে পড়া = ভীষণ বিপদে পড়া
- সখাত সলিলে = ঘোর বিপদে পড়া
- শিরে সংক্রান্তি = বিপদ মাথার ওপর
৮. আন্দাজে কাজ করা
- অন্ধকারে ঢিল মারা = আন্দাজে কাজ করা
৯. ভাগ্য / বিধির বিধান
- অদৃষ্টের পরিহাস = বিধির বিড়ম্বনা / ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা
- ললাটের লিখন = অমোঘ ভাগ্য
১০. তীব্র শত্রুতা / তিক্ত সম্পর্ক
- অহিনকুল সম্বন্ধ = ভীষণ শত্রুতা
- আদায় কাঁচকলায় = তিক্ত সম্পর্ক / শত্রুতা
- দা-কুমড়া = ভীষণ শত্রুতা
১১. দুর্লভ বা আকাঙ্ক্ষিত বস্তু
- অমাবস্যার চাঁদ = দুর্লভ বস্তু
- ডুমুরের ফুল = দুর্লভ বস্তু
- আকাশের চাঁদ = আকাঙ্ক্ষিত বস্তু
- আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া = দুর্লভ বস্তু প্রাপ্তি
১২. অসম্ভব কল্পনা / অবাস্তব জিনিস
- আকাশ কুসুম = অসম্ভব কল্পনা
- ঘোড়ার ডিম = অবাস্তব
- কাঁঠালের আমসত্ত্ব = অসম্ভব বস্তু
- ব্যাঙের সর্দি = অসম্ভব ঘটনা
১৩. খুব খুশি / আনন্দিত
- আহ্লাদে আটখানা = খুব খুশি
- বগল বাজানো = আনন্দ প্রকাশ করা
- চাঁদের হাট = আনন্দের প্রাচুর্য
১৪. অপ্রত্যাশিত ধনলাভ / হঠাৎ বড়লোক
- আঙুল ফুলে কলাগাছ = অপ্রত্যাশিত ধনলাভ / হঠাৎ বড়লোক
১৫. অত্যন্ত অলস / কুঁড়ে
- গোঁফ খেজুরে = নিতান্ত অলস
- কুঁড়ের বাদশা = খুব অলস
- গদাই লস্করি চাল = অতি ধীর গতি, আলসেমি
- শুয়ে শুয়ে লেজ নাড়া = আলস্যে সময় নষ্ট করা
- হাড়ে দুর্বা গজানো = অত্যন্ত অলস হওয়া
১৬. অতি আদরে নষ্ট বা বিলাসপ্রিয়
- আলালের ঘরের দুলাল = অতি আদরে নষ্ট পুত্র
- ফুলবাবু = বিলাসী
১৭. উভয় সংকট / দুই দিকেই বিপদ
- উভয় সংকট = দুই দিকেই বিপদ
- জলে কুমির ডাঙায় বাঘ = উভয় সংকট
- শাঁখের করাত = দুই দিকেই বিপদ
১৮. একের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানো
- উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে = একের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানো
১৯. একই স্বভাবের / এক দলভুক্ত
- এক ক্ষুরে মাথা মুড়ানো = একই স্বভাবের / একই দলভুক্ত
- ঝাঁকের কৈ = এক দলভুক্ত
- সব শেয়ালের এক রা = ঐকমত্য
২০. সহজলভ্য
- উজানে কৈ = সহজলভ্য
- ছেলের হাতের মোয়া = সামান্য বস্তু / সহজলভ্য বস্তু
২১. কুপরামর্শ দান
- কান ভাঙানো = কুপরামর্শ দান
- কান ভারি করা = কুপরামর্শ দান
২২. নির্লজ্জ / বেহায়া / চশমখোর
- কানকাটা = নির্লজ্জ
- ঠোঁট কাটা = বেহায়া
- দুকান কাটা = বেহায়া
- চশমখোর = চক্ষুলজ্জাহীন
২৩. পুনরায় আরম্ভ করা
- কেঁচে গণ্ডুষ = পুনরায় আরম্ভ
২৪. যা সহজে মরে না / দীর্ঘজীবী
- কই মাছের প্রাণ / কৈ মাছের প্রাণ = যা সহজে মরে না
- যমের অরুচি = যে সহজে মরে না
- কাক ভূষণ্ডী / ভূশন্ডির কাক = দীর্ঘজীবী
২৫. পরিপাটি / পরিচ্ছন্ন
- কেতা দুরস্ত = পরিপাটি
২৬. অসাবধান
- কাছা আলগা = অসাবধান
- কাছা ঢিলা = অসাবধান
২৭. চাটুকার / মোসাহেব
- খয়ের খাঁ = চাটুকার
- ঢাকের কাঠি = মোসাহেব, চাটুকার
২৮. অন্ধ অনুকরণ
- গড্ডলিকা প্রবাহ = অন্ধ অনুকরণ
২৯. আত্মগোপন করা
- গা ঢাকা দেওয়া = আত্মগোপন
৩০. নষ্ট হওয়া / ধ্বংস হওয়া
- গোল্লায় যাওয়া = নষ্ট হওয়া, অধঃপাতে যাওয়া
- চুলোয় যাওয়া = ধ্বংস
- ভরাডুবি = সর্বনাশ
৩১. মূর্খ / স্থূলবুদ্ধি
- গোবর গণেশ = মূর্খ
- বুদ্ধির ঢেঁকি = নিরেট মূর্খ
- হস্তীমূর্খ = বুদ্ধিতে স্থূল
৩২. শুরুতেই ভুল
- গোড়ায় গলদ = শুরুতে ভুল
- বিসমিল্লায় গলদ = শুরুতে ভুল
৩৩. ভূমিকা / সূচনা
- গৌরচন্দ্রিকা = ভূমিকা
৩৪. অতি বৃদ্ধ
- ঘাটের মরা / ঘাটের মড়া = অতি বৃদ্ধ
৩৫. পুনরাবৃত্তি করা
- চর্বিত চর্বণ = পুনরাবৃত্তি
- পাখিপড়া করা = বার বার শেখানো
৩৬. লজ্জা / সংকোচ
- চক্ষুলজ্জা = সংকোচ
- চোখের পর্দা = লজ্জা
- চোখের চামড়া = লজ্জা
৩৭. প্রিয় ব্যক্তি
- চোখের মণি = প্রিয়
৩৮. নগণ্য ব্যক্তি বা বস্তু
- চামচিকের লাথি = নগণ্য ব্যক্তির কটূক্তি
- চুঁনোপুটি = নগণ্য
- ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করা = নগণ্য স্বার্থে দুর্নাম অর্জন
৩৯. শ্রমবিমুখ / অলস
- চিনির পুতুল = শ্রমকাতর
- ননীর পুতুল = শ্রমবিমুখ
৪০. বিশৃঙ্খলা / অরাজকতা
- এলোপাতাড়ি = বিশৃঙ্খলা
- লেজে গোবরে = বিশৃঙ্খলা
- হ য ব র ল = বিশৃঙ্খলা
- মগের মুল্লুক = অরাজক দেশ
৪১. সমাধান / মীমাংসা
- এসপার ওসপার = মীমাংসা
৪২. সস্তা দর
- ছ কড়া ন কড়া = সস্তা দর
৪৩. চৈতন্য হওয়া / সচেতন হওয়া
- টনক নড়া = চৈতন্যোদয় হওয়া
৪৪. ধনী ব্যক্তি
- টাকার কুমির = ধনী ব্যক্তি
- লাল হয়ে যাওয়া = ধনশালী হওয়া
৪৫. গোপন রাখার চেষ্টা বা প্রকাশ করা
- ঢাক ঢাক গুড় গুড় = গোপন রাখার চেষ্টা
- হাটে হাঁড়ি ভাঙা = গোপন কথা প্রকাশ করা
৪৬. ক্ষণস্থায়ী বস্তু
- তাসের ঘর = ক্ষণস্থায়ী
- বালির বাঁধ = অস্থায়ী বস্তু
৪৭. ভণ্ড / কপটাচারী
- তুলসী বনের বাঘ = ভণ্ড
- বক ধার্মিক = ভণ্ড সাধু
- বিড়াল তপস্বী = ভণ্ড সাধু
- বর্ণচোরা আম = কপট ব্যক্তি
- ভিজে বিড়াল = কপটাচারী
৪৮. প্রতিশ্রুতি বা কথা দিয়ে সাহায্য না করা
- গাছে তুলে মই কাড়া = সাহায্যের আশা দিয়ে সাহায্য না করা
৪৯. মিথ্যাকে সত্য করা / সত্য গোপন
- দিনকে রাত করা = সত্যকে মিথ্যা করা
- ধর্মের কল বাতাসে নড়ে = সত্য গোপন থাকে না
৫০. সুসময়ের বন্ধু
- দুধের মাছি = সু সময়ের বন্ধু
- বসন্তের কোকিল = সুদিনের বন্ধু
- শরতের শিশির = সুসময়ের বন্ধু
৫১. অপচয় / ক্ষতি
- নয় ছয় = অপচয়
- হরিলুট = অপচয়
৫২. সব তথ্য
- নাড়ি নক্ষত্র = সব তথ্য
- হাড় হদ্দ = নাড়ি নক্ষত্র/সব তথ্য
৫৩. কাঁচা টাকা / নগদ অর্থ
- কাঁচা পয়সা = নগদ উপার্জন
- নগদ নারায়ণ = কাঁচা টাকা/নগদ অর্থ
৫৪. অনিষ্ট করা / ক্ষতি করা
- পাকা ধানে মই = অনিষ্ট করা
- বাড়া ভাতে ছাই = অনিষ্ট করা
৫৫. সৌভাগ্য / লাভ
- একাদশে বৃহস্পতি = সৌভাগের বিষয়
- কপাল ফেরা = সৌভাগ্য লাভ
- পাথরে পাঁচ কিল = সৌভাগ্য
- পোয়া বারো = অতিরিক্ত সৌভাগ্য
- লগন চাঁদ = ভাগ্যবান
৫৭. অহংকার / গর্ব
- নথ নাড়া = গর্ব করা
- পায়াভারি = অহঙ্কার
- ধরাকে সরা জ্ঞান করা = অহঙ্কারে সবকিছু তুচ্ছ মনে করা / সকলকে তুচ্ছ ভাবা
- সাপের পাঁচ পা দেখা = অহঙ্কারী হওয়া
৫৮. উপযুক্ত মিলন
- মণিকাঞ্চন যোগ = উপযুক্ত মিলন
- রাজ যোটক = উপযুক্ত মিলন
- সোনায় সোহাগা = উপযুক্ত মিলন
৫৯. সুযোগ বা কৌশল ব্যবহার করা
- ধরি মাছ না ছুঁই পানি = কৌশলে কার্যাদ্ধার
- ঝোপ বুঝে কোপ মারা = সুযোগ মত কাজ করা
৬০. ক্ষতিকারক বা দুঃসাধ্য বিষয়
- আগুন নিয়ে খেলা = ভয়ঙ্কর বিপদ
- বাঘের দুধ / চোখ = দুঃসাধ্য বস্তু
৬১. পুরোপুরি / পূর্ণাঙ্গ
- কড়ায় গণ্ডায় = পুরোপুরি
- ষোল আনা = পুরোপুরি
- ঘোল কলা = পুরোপুরি
📌 ২য় অংশ: একক ও স্বতন্ত্র অর্থের বাগধারাসমূহ (নম্বরসহ)
- অতি চালাকের গলায় দড়ি = বেশি চাতুর্যর পরিণাম
- অতি লোভে তাঁতি নষ্ট = লোভে ক্ষতি
- অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী = সামান্য বিদ্যার অহংকার
- অনধিকার চর্চা = সীমার বাইরে পদক্ষেপ
- অরণ্যে রোদন = নিষ্ফল আবেদন
- অন্ধকার দেখা = দিশেহারা হয়ে পড়া
- আকাশ পাতাল = প্রভেদ / প্রচুর ব্যবধান
- আকাশ থেকে পড়া = অপ্রত্যাশিত
- আগুনে ঘি ঢালা = রাগ বাড়ানো
- আঠার আনা = সমূহ সম্ভাবনা
- আককেল সেলামি = নির্বুদ্ধিতার দণ্ড
- আদা জল খেয়ে লাগা = প্রাণপণ চেষ্টা করা
- আক্কেল গুড়ুম = হতবুদ্ধি, স্তম্ভিত
- আমতা আমতা করা = ইতস্তত করা, দ্বিধা করা
- আটকপালে = হতভাগ্য
- আঠার মাসের বছর = দীর্ঘসূত্রিতা
- আকাশে তোলা = অতিরিক্ত প্রশংসা করা
- আষাঢ়ে গল্প = আজগুবি কেচ্ছা
- ইঁদুর কপালে = নিতান্ত মন্দভাগ্য
- ইঁচড়ে পাকা = অকালপক্ব
- ইলশে গুঁড়ি = গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি
- ইতর বিশেষ = পার্থক্য
- উত্তম মধ্যম = প্রহার
- উড়নচন্ডী = অমিতব্যয়ী
- উলু বনে মুক্ত ছড়ানো = অপাত্রে/অস্থানে মূল্যবান দ্রব্য প্রদান
- উড়ো চিঠি = বেনামি পত্র
- উড়ে এসে জুড়ে বসা = অনধিকারীর অধিকার
- ঊনপঞ্চাশ বায়ু = পাগলামি
- এক চোখা = পক্ষপাতিত্ব, পক্ষপাতদুষ্ট
- এক মাঘে শীত যায় না = বিপদ এক বারই আসে না, বার বার আসে
- এক বনে দুই বাঘ = প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী
- এলাহি কাণ্ড = বিরাট আয়োজন
- ওজন বুঝে চলা = অবস্থা বুঝে চলা
- ওষুধে ধরা = প্রার্থিত ফল পাওয়া
- কচুকাটা করা = নির্মমভাবে ধ্বংস করা
- কচু পোড়া = অখাদ্য
- কচ্ছপের কামড় = যা সহজে ছাড়ে না
- কলম পেষা = কেরানিগিরি
- কলুর বলদ = এক টানা খাটুনি
- কথার কথা = গুরুত্বহীন কথা
- কাকতাল = আকস্মিক/দৈব যোগাযোগজাত ঘটনা
- কত ধানে কত চাল = হিসেব করে চলা
- কান খাড়া করা = মনোযোগী হওয়া
- কাপুড়ে বাবু = বাহ্যিক সাজ
- কেউ কেটা = গণ্যমান্য / সামান্য
- কেঁচো খুড়তে সাপ = বিপদজনক পরিস্থিতি / সামান্য থেকে অসামান্য পরিস্থিতি
- কূপমণ্ডুক = সীমাবদ্ধ জ্ঞান সম্পন্ন, ঘরকুনো
- কাঠের পুতুল = নির্জীব, অসার
- কথায় চিঁড়ে ভেজা = ফাঁকা বুলিতে কার্যসাধন
- কান পাতলা = সহজেই বিশ্বাসপ্রবণ
- কুল কাঠের আগুন = তীব্র জ্বালা
- খণ্ড প্রলয় = ভীষণ ব্যাপার
- খাল কেটে কুমির আনা = বিপদ ডেকে আনা
- গণেশ উল্টানো = উঠে যাওয়া, ফেল মারা
- গলগ্রহ = পরের বোঝা স্বরূপ থাকা
- গরজ বড় বালাই = প্রয়োজনে গুরুত্ব
- গরমা গরম = টাটকা
- গরিবের ঘোড়া রোগ = অবস্থার অতিরিক্ত অন্যায় ইচ্ছা
- গুর খোঁজা = তন্ন তন্ন করে খোঁজা
- গুরু মেরে জুতা দান = বড় ক্ষতি করে সামান্য ক্ষতিপূরণ
- গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল = প্রাপ্তির আগেই আয়োজন
- গায়ে কাঁটা দেওয়া = রোমাঞ্চিত হওয়া
- গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানো = কোনো দায়িত্ব গ্রহণ না করা
- গুরু মারা বিদ্যা = যার কাছে শিক্ষা তারই উপর প্রয়োগ
- গোকুলের ষাঁড় = যথেচ্ছাচারী / স্বেচ্ছাচারী লোক
- গোঁয়ার গোবিন্দ = নির্বোধ অথচ হঠকারী
- গোলক ধাঁধা = দিশেহারা
- গৌরীসেনের টাকা = বেহিসাবী অর্থ
- গুড়ে বালি = আশায় নৈরাশ্য
- ঘর ভাঙানো = সংসার বিনষ্ট করা
- ঘোড়া রোগ = সাধ্যের অতিরিক্ত সাধ
- ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া = মধ্যবর্তীকে অতিক্রম করে কাজ করা
- ঘোড়ার ঘাস কাটা = অকাজে সময় নষ্ট করা
- ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো = নিজ খরচে পরের বেগার খাটা
- ঘটিরাম = আনাড়ি হাকিম
- চক্ষুদান করা = চুরি করা
- চোখ কপালে তোলা = বিস্মিত হওয়া
- চোখ টাটানো = ঈর্ষা করা
- চোখে ধুলো দেওয়া = প্রতারণা করা
- চুনকালি দেওয়া = কলঙ্ক
- চিনে/ছিনে জোঁক = নাছোড়বান্দা
- ছা পোষা = অত্যন্ত গরিব
- ছাই ফেলতে ভাঙা কুলা = সামান্য কাজের জন্য অপদার্থ ব্যক্তি
- ছক্কা পাঞ্জা = বড় বড় কথা বলা
- ছিঁচ কাদুনে = অল্পই কাঁদে এমন
- ছিনিমিনি খেলা = নষ্ট করা
- জগাখিচুড়ি পাকানো = গোলমাল বাধানো
- জিলাপির প্যাঁচ = কুটিলতা
- ঝড়োর কাক = বিপর্যস্ত
- ঝিকে মেরে বউকে বোঝানো = একজনের মাধ্যমে দিয়ে অন্যজনকে শিক্ষাদান
- টেকে গোঁজা = আত্মসাৎ করা
- টুপভুজঙ্গ = নেশায় বিভোর
- ঠাঁট বজায় রাখা = অভাব চাপা রাখা
- ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় = আদর্শহীনতার প্রাচুর্য
- ঠেলার নাম বাবাজি = চাপে পড়ে কাবু
- ডাকের সুন্দরী = খুবই সুন্দরী
- ডান হাতের ব্যাপার = খাওয়া
- ডামাডোল = গণ্ডগোল
- ঢাঁকের বাঁয়া = অপ্রয়োজনীয়
- ঢেঁকির কচকচি = বিরক্তিকর কথা
- ঢি ঢি পড়া = কলঙ্ক প্রচার হওয়া
- ঢিমে তেতালা = মন্থর
- তালকানা = বেতাল হওয়া
- তামার বিষ = অর্থের কু প্রভাব
- তালপাতার সেপাই = ক্ষীণজীবী
- তিলকে তাল করা = বাড়িয়ে বলা
- তুলা ধুনা করা = দুর্দশাগ্রস্ত করা
- তুষের আগুন = দীর্ঘস্থায়ী ও দুঃসহ যন্ত্রণা
- তীর্থের কাক = প্রতীক্ষারত
- থ বনে যাওয়া = স্তম্ভিত হওয়া
- থরহরি কম্প = ভীতির আতিশয্যে কাঁপা
- দহরম মহরম = ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
- দু মুখো সাপ = দু জনকে দু রকম কথা বলে পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টিকারী
- দুধে ভাতে থাকা = খেয়ে-পড়ে সুখে থাকা
- দেঁতো হাসি = কৃত্তিম হাসি
- দাদ নেওয়া = প্রতিশোধ নেয়া
- ধড়া-চূড়া = সাজপোশাক
- ধর্মের ষাঁড় = যথেচ্ছাচারী
- নাটের গুরু = মূল নায়ক
- নিমক হারাম = অকৃতজ্ঞ
- নিমরাজি = প্রায় রাজি
- নামকাটা সেপাই = কর্মচ্যূত ব্যক্তি
- নেই আঁকড়া = একগুঁয়ে
- পগার পার = আয়ত্তের বাইরে পালিয়ে যাওয়া
- পটের বিবি = সুসজ্জিত
- পত্রপাঠ = অবিলম্বে/সঙ্গে সঙ্গে
- পালের গোদা = দলপতি
- পাততাড়ি গুটানো = জিনিসপত্র গোটানো
- পুঁটি মাছের প্রাণ = যা সহজে মরে যায়
- পুকুর চুরি = বড় রকমের চুরি
- পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটা = পুরোনো প্রসঙ্গে কটাক্ষ করা
- প্রমাদ গোণা = ভীত হওয়া
- পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙা = অপরকে দিয়ে কাজ উদ্ধার
- পরের ধনে পোদ্দারি = অন্যের অর্থের যথেচ্ছ ব্যয়
- ফপর দালালি = অতিরিক্ত চালবাজি
- ফেউ লাগা = আঠার মতো লেগে থাকা
- ফুলের ঘাঁয়ে মূর্ছা যাওয়া = অল্পে কাতর
- ফোড়ন দেওয়া = টিপ্পনী কাটা
- বইয়ের পোকা = খুব পড়ুয়া
- বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো = সহজে খুলে যায় এমন
- বরাক্ষরে = অলক্ষুণে
- বাজারে কাটা = বিক্রি হওয়া
- বাঁ হাতের ব্যাপার = ঘুষ গ্রহণ
- বাঁধা গৎ = নির্দিষ্ট আচরণ
- বাজখাঁই গলা = অত্যন্ত কর্কশ ও উঁচু গলা
- বায়াত্তরে ধরা = বার্ধক্যের কারণে কাণ্ডজ্ঞানহীন
- বিদ্যার জাহাজ = অতিশয় পণ্ডিত
- বিশ বাঁও জলে = সাফল্যের অতীত
- বিনা মেঘে বজ্রপাত = আকস্মিক বিপদ
- ব্যাঙের আধুলি = সামান্য সম্পদ
- ভস্মে ঘি ঢালা = নিষ্ফল কাজ
- ভাদ্র মাসের তিল = প্রচণ্ড কিল
- ভানুমতীর খেল = অবিশ্বাস্য ব্যাপার
- ভাল্লুকের জ্বর = ক্ষণস্থায়ী জ্বর
- ভাঁড়ে ভবানী = নিঃস্ব অবস্থা
- ভূতের ব্যাগার = অযথা শ্রম
- ভূঁই ফোড় = হঠাৎ গজিয়ে ওঠা
- মন না মতি = অস্থির মানব মন
- মড়াকান্না = উচ্চকণ্ঠে শোক প্রকাশ
- মাছের মায়ের পুত্রশোক = কপট বেদনাবোধ
- মিছরির ছুরি = মুখে মধু অন্তরে বিষ
- মুখ চুন হওয়া = লজ্জায় ম্লান হওয়া
- মুখে দুধের গন্ধ = অতি কম বয়স
- মুস্কিল আসান = নিষ্কৃতি
- মেনি মুখো = লাজুক
- মাকাল ফল = অন্তঃসারশূণ্য
- মশা মারতে কামান দাগা = সামান্য কাজে বিরাট আয়োজন
- মুখে ফুল চন্দন পড়া = শুভ সংবাদের জন্য ধন্যবাদ
- মেছো হাটা = তুচ্ছ বিষয়ে মুখরিত
- যক্ষের ধন = কৃপণের ধন
- রত্নপ্রসবিনী = সুযোগ্য সন্তানের মা
- রাঘব বোয়াল = সর্বগ্রাসী ক্ষমতাবান ব্যক্তি
- রাবণের চিতা = চির অশান্তি
- রাশভারি = গম্ভীর প্রকৃতির
- রাই কুড়িয়ে বেল = ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে বৃহৎ
- রাজা উজির মারা = আড়ম্বরপূর্ণ গালগল্প
- রাবণের গুষ্টি = বড় পরিবার
- রায় বাঘিনী = উগ্র স্বভাবের নারী
- রাহুর দশা = দুঃসময়
- রুই-কাতলা = পদস্থ বা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি
- লেফাফা দুরস্ত = বাইরের ঠাট বজায় রেখে চলেন যিনি
- লাল পানি = মদ
- লাল বাতি জ্বালা = দেউলিয়া হওয়া
- শকুনি মামা = কুটিল ব্যক্তি
- শাপে বর = অনিষ্টে ইষ্ট লাভ
- শিকায় ওঠা = স্থগিত
- শিবরাত্রির সলতে = একমাত্র সন্তান
- শত্রুর মুখে ছাই = কুদৃষ্টি এড়ানো
- শ্রীঘর = কারাগার
- সবুরে মেওয়া ফলে = ধৈর্য ধরে সুফল মিলে
- সরফরাজি করা = অযোগ্য ব্যক্তির চালাকি
- সাত খুন মাফ = অত্যধিক প্রশ্রয়
- সাত সতের = নানা রকমের
- সাপের ছুঁচো গেলা = অনিচ্ছায় বাধ্য হয়ে কাজ করা
- সাতেও নয়, পাঁচেও নয় = নির্লিপ্ত
- সাক্ষী গোপাল = নিষ্ক্রিয় দর্শক
- হাতটান = চুরির অভ্যাস
- হরি ঘোষের গোয়াল = বহু অপদার্থ ব্যক্তির সমাবেশ
- হাতুড়ে বদ্যি = আনাড়ি চিকিৎসক
- হাতের পাঁচ = শেষ সম্বল
- হীরার ধার = অতি তীক্ষ্ণবুদ্ধি
- হোমরা চোমরা = গণ্যমান্য ব্যক্তি
- হিতে বিপরীত = উল্টো ফল
- হাড় হাভাতে = হতভাগ্য
- হালে পানি পাওয়া = সুবিধা করা
💡 টিপস: যেকোনো নির্দিষ্ট বাগধারা দ্রুত খুজে পেতে কিবোর্ডের
Ctrl + F চাপুন। বিশেষ কোনো নম্বর চিহ্নিত করে পরবর্তীতে রিভিশন নিতে পারেন।

0 Comments